Happy Home & Healthcare Prokashoni

অ্যন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা দিনে দিনে কমছে কেন

আইভি খান ওয়াহিদ || 2021-04-17 02:19:07

 

পেনিসিলিন আবিষ্কারের পরে একে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল । যক্ষা, কলেরা ও ম্যালেরিয়ার ,মত প্রাণঘাতী রোগ মোকাবেলায় অ্যান্টিবায়োটিক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল । গত শতক জুড়ে অ্যান্টিবায়োটিকের কল্যাণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে  এসেছে হাজারো প্রাণ । ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অ্যান্টিবায়োটিকের জয়গান প্রচারিত হয়েছে ।

কিন্তু জন্মের শতবর্ষ পূরণের আগেই অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । বলা হচ্ছে বেশ কিছু রোগের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে গেছে । কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য এর পক্ষে প্রমাণও মিলেছে । গবেষকেরা দাবী করছেন মূত্রনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগের জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলো এখন আর কাজ করছে না ।                                                                                                                                                                                                                                                                                                            সংরক্ষিত অ্যান্টিবায়োটিক যা ‍দ্বিতীয় বা পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার জন্য রাখা হয় তা এখন শুরুতেই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবী অ্যান্টিবায়োটিকের অতি ব্যবহারই এর মূল কারণ।কারণে- অকারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক কিনছে ও গিলছে। বাংলাদেশের ওষুধের দোকানগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ওষুধ কেনা যায়। অনেকসময় ওষুধের দোকানের বিক্রেতা রোগীর লক্ষণ শুনে নিজেই ব্যবস্থাপত্র ‍দেন ও ওষুধ বিক্রি করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাবিহীন এইসব বিক্রেতা সাধারণত রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক কিনতেই উৎসাহিত করেন। এতে দুইটি লাভ পাওয়া যায়। প্রথমত অ্যান্টিবায়োটিকে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। বিক্রেতার উপর রোগীর আস্থা বাড়ে। তার ব্যবসার পসার হয়। আর দ্বিতীয়ত ওষুধ কোম্পানিরও ভালো ব্যবসা হয়। জ্বর-সর্দি- কাশির মত সাধারণ রোগ যদি অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় তাহলে কোম্পানির হিসেবের খাতায় লাভের অংকটা বড়সড়ই হয়। সারা দুনিয়ার ওষুধ হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিকেই সবচাইতে বেশি বেচা-বিক্রি হয়।

তাই বাজার অর্থনীতি পণ্য হিসেবে এর উপযোগিতাও বেশ। আসলে ওষুধ ব্যবসাও তো ব্যবসা। ওষুধ ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গিও তাই সমাজের আর সব ব্যবসায়ীদের থেকে আলাদা কিছু নয়। ওষুধ রোগীর কাজে আসবে কি না বা রোগীর দেহে কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে কি না তা নিয়ে সে ভাবে না। মুনাফা বৃদ্ধির চিন্তাই তার একমাত্র বিব্যেচ বিষয়।

অ্যান্টিবায়োটিকের অকারণ অতিব্যবহারের দায় চিকিৎসকদের ওপরও বর্তায়। চিকিৎসকদের বড় একটা অংশের সাথে ওষুধ কোম্পানির আপস-রফা আছে। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে অতিরিক্ত ওষুধ লেখার সোফা থেকে শুরু করে গোসলের সাবান পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির দেয়া। বিশেষ কিছু চিকিৎসকের জন্য ফ্ল্যাট, বিমানের টিকেট বা হীরার গহনা উপহার দেয়ার ঘটনাও আছে। এছাড়া প্রত্যেকটি কোম্পানি চিকিৎসকদের বিনা পয়সায় নমুনা ওষুধ দেয়। নতুন ওষুধ বাজারজাত করার সময় তারা গবেষণার কথা বলে চিকিৎসকদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে ওষুধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রভাবিত হন বলে অনেকেই মনে করেন।

এভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় অকারণ ব্যবহারের পরিণতিতে মানুষের দেহে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী শক্তি তৈরী হচ্ছে। ফলে তা রোগ দমনে আগের মত কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বাধ্য হয়েই অনেক ডাক্তার অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী প্রজন   অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন।                            

Designed & Developed by TechSolutions BD