Happy Home & Healthcare Prokashoni

       কোন ওষুধ কখন খাবেন, কিভাবে খাবেন

আইভি খান ওয়াহিদ || 2021-04-17 15:43:18

                                           

ওষুধ আজ আমাদের সবার কাছেই খুব পরিচিত একটি বিষয় । আমরা সবাই কোন না কোন , কিছু না কিছু ওষুধ খাচ্ছি হামেশাই । তাই ওষুধ খাওয়ার সময়ও নিয়ম সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি । যে কোন ওষুধ খেতে হলে পুরো এক  গ্লাস পানি দিয়ে খান । এক চুমুক পানি দিয়ে ওষুধ খেলে পাকস্থলীতে প্রদাহ ( Inflammation  )বা ঘাজনিত সমস্যা ( Ulcer ) হতে পারে । কারন ওষুধ গলে যাওয়ার পরে পুরোপুরি  লঘু হওয়ার মত পানি সে পায় না । তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয় । বলা হয়ে থাকে, সব ওষুধই খালি পাকস্থলী ( Stomach )-ত ভালো শোষণ হয় । সেই হিসেবে সব ওষুধেই খাবার ১ঘন্টা আগে বা ২ঘন্টা পরে খাওয়া উচিত । তবুও কিছু কিছু ওষুধ খাবারের সাথে অথবা খাবারের পরপরই খেতে হয় । আসুন জেনে নেই , কেন কিছু ওষুধ খাবারের পরপরই খেতে হয় ।

  • কিছু ওষুধ খেলেই বমিভাব অথবা বমি  হতে পারে । এই বমি ভাব যেন না হয় তা প্রতিরোধ করতেই  কিছু ওষুধ খাবারের সাথে দেয়া হয় । যেমন: অ্যালোপিউরিনল ( Allopurinol ) ব্রোমোক্রিপটিন ( Bromocriptine) ইত্যাদি ।
  • কিছু কিছু ওষুধ খালি পাকস্থলীতে জ্বালা (  Stomach irritation ) তৈরী করে । যার ফলে বদহজম ( Indigestion ) প্রদাহ (Inflammation ) অথবা পাকস্থলীতে ঘা বা টষপবৎ তৈরী করে । তাই তাদের খাবার পরে খাওয়া উচিত , যেমন খাবারের কারণে তারা পাকস্থলী গাত্রের কাছে ভিড়তে না পারে । যেমন- অ্যাসপিরিন (Aspirin) যবতীয় ব্যথার ওষুধ ( Diclofenac and other NSAIDs ) এবং স্টেরয়েড ( Steroids ) জাতীয় ওষুধ । কারণ এরা পাকস্থলী গাত্রের প্রতিরোধক প্রোস্টাগ্লান্ডিন (Prostaglandin) তৈরির পথ বন্ধ করে দেয় ।

•আমরা জানি পেটে খাবার থাকলেই বেশি এসিড রিলিজ হয় । যার ফলে রিফ্লাক্স (Reflux) ও রিগার্টেশন (Regurgitation ) হয়ে থাকে ।  অর্থাৎ খাবার উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে । এইজন্য এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ খাবার পরে খাওয়া উচিত ।

  • যেই ওষুধগুলো খাবার দ্বারা ধৌত হয়ে যেতে পারে যেমন-   মূখের জেল (Oral Gei) মুখের ড্রপ ( Oral drop) মাউথ ওয়াশ (Mouth wash) এগুলো খাবার পরে ব্যবহার করা উচিত । নইলে খাবার সব ভাসিয়ে পেটে নিয়ে চলে যাবে । মুখের কোন কাজ হবে না ।
  • কিছু ওষুধ শোষণ হওয়ার জন্য খাবার খাদ্যনালীতে থাকা বাধ্যতামূলক । যেমন : টেট্রাসাইক্লিন , ডক্সিসাইক্লিন, স্যাকুইনাভির ইত্যাদি । তাই এগুলো খাবারের সাথে খাওয়া উচিত ।
  • বোতলের ওষুধ কিভাবে খাবেন তা অনেকেই জানেন না । কখন ঝাঁকানো লাগবে , আর কখন লগবে না এ ব্যাপারে অনেকে  দ্বিধায় পড়েন । বোতলের ওষুধ দুই  প্রকার হয় – সিরাপ  এবং সাসপেনশন । সিরাপগুলো সমস্বত্ত দ্রবণ , তাই এটাকে ঝাঁকানো লাগে না । এটা পুরা দ্রবনেই সমানভাবে মিশে থাকে। সাসপেনশনগুলো  অসমস্বত্ত দ্রবণ।ছোট ছোট দানাগুলো পানিতে ঠিকমত দ্রবীভূত হয় না। তাই রেখে দিলে ওষুধের গুড়াঁগুলা তলানি পড়ে যায়। তাই খাওয়ার আগে ঝাঁকুনি দিলে, তা পুরা পানিতে সমানভাবে মিশ্রিত হয়। সুতরাং যে সব বোতলের গায়ে সিরাপ লেখা, তা খাওয়ার ঝাঁকানোর দরকার নাই। আর যে সব বোতলের গায়ে সাসপেনশন লেখা, তা খাওয়ার আগে ঝাঁকিয়ে খাওয়া বাঞ্চনীয়। নইলে একবার শুধুই পানি খাবেন, আর শেষের বার শুধুই ওষুধের দানা খাবেন।

যে সব ওষুধের উপরে উল্লেখিত ঝামেলাগুলে নাই, সে সব ওষুধ চোখ বন্ধ করে খাবারের আগে, সাধারণ নিয়ম মেনে  খেয়ে নিন। তবে ওষুধ খাওয়ার আগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ( Side effects ) সম্পর্কে জেনে নিন।

তাহলে সাইড ইফেক্টস হজম করতে সহজ হবে। কারণ ওষুধ শরীরের একটা ভালো কাজ করলেও একাধিক খারাপ কাজ করতে পারে। কেননা সব ওষুধই

Designed & Developed by TechSolutions BD