Happy Home & Healthcare Prokashoni

কোয়ারেন্টিনে অলস সময় কিভাবে কাজে লাগাবেন?

Amar ShasthoBD || 2021-04-16 13:29:49

হোম কোয়ারেন্টিন অবস্থাতে কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সবাই। এ চাপ বেড়ে যায় তখনই, যখন সব কাজ বন্ধ করে আগত বিপদের অপেক্ষা করতে থাকেন। যত কাজ মুক্ত থাকবেন, ততই মানসিক চাপ বেড়ে যাবে। একই সংঙ্গে শরীর বিপদের সংঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি হাড়িয়ে ফেলবে। এই সময়টাতে সবার জন্য দৈনন্দিন কাজের একটা গাইডলাইন এ লেখাতে দেওয়ার চেষ্টা করবো। আশা করি লেকাটি পড়া শেষ করলে আপনার এ মুহুর্তের একটি বড় সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। সমস্যাটি হচ্ছে, অনেকেই বলেন, সময় কাটে শুধু ঘুমে। ঘুম থেকে উঠে একবার ভাবি, কী কাজ করবো এখন? এটা ভেবে বের করার আগেই আরার ঘুমিয়ে পড়ি। এ লেখাটি পরার পড় ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। পুরো ২৪ ঘন্টার একটা রুটিনও পেয়ে যাবেন পূরো লেখাটি পড়া শেষ করলে। এ দুর্যোগে আমাদের মূলত ৩টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাতে ৩টি কাজ রুটিনে থাকতে হবে।

চ্যালেঞ্জ -১ঃ বিপদ থেকে মুক্তি পেতে সৃষ্টিকর্তার করুনা পাওয়া।

চ্যালেঞ্জ জয়ে কর্তব্যঃ  নিজ ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার চেষ্টা করা। (সকল ধর্মের লোকেরা তাদের নিয়মেই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবেন)।

চ্যালেঞ্জ-২ঃ করোনা আক্রান্ত না হওয়া।

 চ্যালেঞ্জ জয়ে কর্তব্যঃ স্বাস্থ বিষয়ক গাইডলাইনগুলো অনুসরন করা।

চ্যালেঞ্জ-৩ঃ সম্ভব্য অর্থনৈতিক মন্দাতে নিজেকে আর্থিকভাকে স্বচ্ছল রাখা।

চ্যালেঞ্জ জয়ে কর্তব্যঃ দক্ষতা অর্জনে বিশেষ সময় দেওয়া। এইটুকু পরেই উঠে গেলে অনেক কিছু মিস করবেন। কারন এখন এই ৩টি মূল কাজগুলো কিভাবে করবেন, সেটির পরিপূর্ন গাইডলাইন দিবো।

চ্যালেঞ্জ -১ঃ বিপদ থেকে মুক্তি পেতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ( এখানে মুসলিমদের জন্য গাইডলাইন দেয়া হলো, অন্য ধরমের লোকেরা নিজের মতো করে প্রার্থনা করুন।) বিশ্বের সকল উন্নত রাষ্ট করোনাকে ঠেকাতে ব্যার্থ হচ্ছে। কোনভাবেই তারা মৃত্যুার সংখ্যা ঠেকাতে পারছে না। এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর করুনা ছাড়া কোনো উপায় নাই। তাই নিজের, পরিবারের, সমাজের, ও দেশের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। আল্লাহর সাহায্য পেতে তার সন্তুষ্টি অর্জনে তার নির্দেশগুলো পালন করতে হবে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের কর্তব্যগুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করি-

১) আল্লাহর এবাদত করাঃ

৫ ওয়াক্ত নামাজ, তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য নফল ইবাদত, রোজা রাখা, কোরআন তেলওয়াত করা।

২) দান করাঃ

দান মানুষের বিপদকে কমিয়ে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতি দান করার সর্বোত্তম সময়। বাইরে লাইন ধরে দান করার পাশাপাশি, সবচেয়ে প্রথম দান পাওয়ার অধিকার নিজের গরিব আত্বীয়-স্বজন, গরীব প্রতিবেশী, বাসার কর্মচারী (বুয়া, দারোয়ান ইত্যাদি)। সেইসংঙ্গে এই সময়ে বাজারে গেলে দাম কমানোর চেষ্টা না করে লস হলেও সেই টাকা দিয়ে আসুন, রিক্সাতে কিংবা কোন যানবাহনে চড়ে কোথাও যাওয়ার সময় দামাদামি না করে, উল্টো কিছু বারতি টাকা তাদের ধরিয়ে দিন। এটাতেও দান করার সওয়াব পাবেন।

৩) ইসলামিক জ্ঞান অর্জনঃ

ইসলামিক সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য কোরআনে তাফসির পড়ার পাশাপাশি ইসলামিক সাহিত্য পড়ুন। এটাও আল্লাহর পছন্দনীয় অন্যতম কাজ। কুরআন হাদিসের বাইরেও ইসলামিক যে সব বই রয়েছে, সেগুলো বেশি বেশি পড়ে ইসলাম সম্পের্কে জ্ঞান অর্জন করা যাবে, সময়টা ভালই কাটবে। এগুলো অনলাইনে সার্চ দিলেও প্রচুর বইয়ের পিডিএফ হয়তো খুজে পেতে পারেন।

চ্যালেঞ্জ ২ঃ করোনা আক্রান্ত না হওয়া

করোনাভাইরাস নিজের শরীরে কিংবা ঘরের কারো শরীরে কিংবা এক বিল্ডিং এমনকি এক এলাকাতে একবার ডুকে পড়লে সেই ভাইরাস সবার জন্য বিপদ ডেকে আনার সম্ভাবনা থাকে। তাই করোনাভাইরাসকে এলাকার কাছে ধারেও আসতে না দেওয়ার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিতে বলছে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা। তাই আপনার ২৪ ঘন্টার রুটিনের কাজের লিষ্টে অন্যতম প্রধান কাজ করোনা প্রতিরোধের জন্য নিন্মে বর্ণিত কিছু রুটিন কর্মকান্ড।

নিজেকে পরিছন্ন রাখাঃ

মুখ, নাক এবং চোখ দিয়ে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। বাতাশের মাধ্যমে নয়। এই মুখ, নাক এবং চোখে হাতের সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। তাই হাত ১ ঘন্টা পর পর সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে এলে কোথাও না বসে কাপড়চোপড় ধুয়ে ফেলবো বা একটা ঢাকনা ওয়ালা বালতিতে ঢেকে রাখবো এবং সময় মতো ধুয়ে নেব। সম্বব হলে ঘরে এসে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে নেব অথবা হাত মুখ পরিস্কার করব।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোঃ

সুযোগ মতো লবণযুক্ত গরম পানি দিয়ে গলা পরিস্কার (গড়গড়) করব। বিটামিন সি –সমৃদ্ধ খাবার খাব। সবুজ শাকসবজি, সুষম খাবার, মাছ, মাংস, ডিম ভালোকরে সিদ্ধ করে খাবো ( ডিমের পোঁচ খাওয়া যাবে না) যাতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনভাবেই ঠান্ডা কোন খাবার খাওয়া যাবে না। কিছু সময় পর পর গরম কফি, চা, গরম পানি বা স্যুপ খেলে ভালো হয়। এগুলোর পাশাপাশী নিয়মিত শরীর চর্চা চালাতে হবে।

চ্যালেঞ্জ ৩ঃ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দাতে নিজেকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল রাখা

মহামারি করোনাভাইরাস নাড়া দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যে স্হবিরতা নেমে এসেছে, তাতে ৩৩০ কোটি কর্মক্ষম মানুষের আংশিক বা পুরো পুরি বেকার হয়ে যাওয়ার আশম্কা রয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। এই পরিস্থিতির কথা ভুলে গেলে হবে না।

সেই পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুতি নিতে এখনকার এই ফ্রি সময়টাকেই কাজে লাগাতে হবে। না হলে করোনাথেকে বাচলেও চাকরি হারিয়ে আরেক বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। সেই বিপদকে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি হিসাবে এই অবসর সময়টাতে নিজের দক্ষতাকে অনেকগুন বাড়িয়ে নিতে হবে। প্রশ্ন হতে পারে, আমার যোগ্যতা বা দক্ষতা না থাকলে কি আমার চাকরি হয়েছে । হুম, কথা সত্য। যোগ্যতার কারনেই আপনার চাকরি করতে পারছেন। কিন্তু কিছু দিন আগে প্রকাশিত বিবিসির একটা সংবাদ শিরোনাম শেয়ার করে আপনাকে সতর্ক করছি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের চাকরি হারিয়ে ডেলিভারি ভ্যানের ড্রাইভার হিসাবে চাকরি করছেন। আপনার বর্তমান চাকরিটি কোন কারনে চলে গেলে অন্য কোন যোগ্যতা দিয়ে হলেও অন্য ক্যাটাগরিতে হলেও একটি চাকরি যোগাড় করার মত দক্ষতা এখনই অর্জন করে নিতে হবে। আবার এমন হতে পারে আপনার অনেকগুলো যোগ্যতা থাকার কারনে হয়তো প্রতিষ্ঠানের ৮০% এর চাকরি চলে গেলেও আপনার চাকরি যাতে অন্তত টিকে যায়।

আর যদি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও যাতে অন্যকোন চাকরি যোগাড় করতে আপনার হাতে যাতে অনেকগুলো অপশন থাকে। কিভাবে কাজে লাগাবেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন দিচ্ছি এবার।

৬টি বিশেষ গাইডলাইন

১. স্কিল বাড়ানোর চেষ্টা করুন। মাল্টি স্কিল হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনাকে দিয়ে ২-৩ ধরনের কাজ করানো গেলে আপনাকে কোম্পানি বাদ দেওয়ার চিন্তা কম করবে। কিংবা চাকরি চলে গেলেও আপনার অনেকগুলো স্কিলের কোন একটা নতুন চাকরি পেতে সহায়ক হবে।

২. কমিউনিকেশন দক্ষতা বর্তমান যুগে খুব বড় একটা যোগ্যতা। যেকোন চাকরিতে ভালো অবস্থানে যেতে ভালো পারফরমেন্স করতে হয়। আর ভালো পারফরমেন্সের জন্য প্রয়োজন কমিউনিকেশন দক্ষতা। কমিউনিকেশন দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বই কিংবা গুগল সার্চ করে কিংবা ইউটিউব থেকে শিখতে পারেন।

৩. প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিন। কারন পরবর্তি বিশ্বে সকল কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর চলার সম্ভাবনাই বেশি দেখছে সবাই। এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট অবশ্যই জানা থাকতে হবে। গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিংটাও শিখে রাখতে পারেন। এ দক্ষতাগুলো থাকলে আপনার প্রতিষ্ঠানে ভালো একটা ভ্যালু থাকবে।  আবার চাইলে অনলাইনেও বহিবির্শ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানেও কাজ করার সুযোগ পাবেন। এগুলো শিখার জন্য ইউটিউবে বাংলাতেই ভালো ভালো অনেক রিসোর্স খুঁজে পাবেন।

৪. উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করুন। নিজে উদ্যোক্তা হতে পারবেন। উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা না থাকলে আপনি যেখানে চাকরি করেন, সেই বিজনেসেও নিজের উদ্যোক্তা বিষয়ক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সেই বিজনেসের সাফল্য নিয়ে আসতে পারবেন।

৫. যেকোন বিজনেসে ইনকাম বাড়াতে প্রয়োজন মার্কেটিং এবং ব্রান্ডিং। ভাবুনতো একবার আপনার মাধ্যমেই যদি কোন প্রতিষ্ঠান অনেক ক্লায়েন্ট পায় এবং ব্যাবসাতে ইনকাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে আপনার ভ্যালু কি পরিমানে বাড়বে? তাই বিজনেস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ব্রান্ডিং সম্পর্কে এ ছুটিতে শিখে নিতে পারেন।

৬. ইংরেজিতে যাদের জ্ঞান কম আছে, তারা এই ফ্রি সময়টাতে ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে পারেন। ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে কয়েক বন্ধু মিলে চ্যাটিং গ্রুপ করে নিতে পারেন। সেই গ্রুপে ইংরেজিতে আড্ডা দিন। সময় কাটবে আড্ডা দিয়ে। সঙ্গে ইংরেজি ভয় দূর হবে, ইংরেজি জ্ঞানও বাড়বে।

৭. আর কিছু লিখে বড় করবো না। সময় কাটানোর একটা গাইডলাইন তৈরি দেওয়ার চেষ্টা করছি। কতটুকু কাজে লাগাবেন, সেটি আপনার বিষয়। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন সময় কাটালে সময়টা ভাল কাটবে, সেইসংঙ্গে নিজের জন্য ভাল কিছু অর্জন করতে পারবেন। (দৈনিক যুগান্তর থেকে নেওয়া)

Designed & Developed by TechSolutions BD