Happy Home & Healthcare Prokashoni

অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যারাসাইটগুলি কি?

আইভি খান ওয়াহিদ || 2021-04-17 11:12:34

যেগুলি ভয়াবহ, সেগুলি হল: সালমোনেলা, ই কোলাই, ক্লোস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম ও টক্সোপ্লাজমা। এগুলিকে বাদ দিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেন খাদ্য বিষক্রিয়া হল তা ধরা পড়ে না। কোথ্থেকে এরা আসে এবং শরীরের কী ক্ষতি করতে পারে?

সালমোনেলা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যেটি সাধারণত পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জন্তুর অন্ত্রের মধ্যে থাকে। ভালো করে মাংস রান্না না করলে এই ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় না-খারারের মধ্যে থেকে যায়। এছাড়া অন্যভাবেও ( যেমন, পশু-পাখির নোংরায় হাত দিয়ে – হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করে সেই হাতে খাবার ধরলে ) এটি খাদ্যকে দূষিত করতে পারে। সালমোনেলা শরীরে প্রবেশ করলে জ্বর, পেটে খিল ধরা, পেট খারাপ ইত্যাদি দেখা যায়। এটি যথেষ্ট ভয়াবহ- বিষক্রিয়া থেকে সুস্থ হতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগে। হাসপাতালে না গেলে বা সতর্কতা না নিলে এর থেকে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

সাধারণভাবে কোলাই ব্যাকটেরিয়া মানুষ ও জন্তু-জানোয়ারের মধ্যে থাকে। এর কতগুলি প্রজাতি এক ধরনের বিষ বা টক্সিন তৈরি করে যা শরীরের অন্ত্র, মূত্রগ্রন্থি, রক্ত ইত্যাদি আক্রান্ত করে। এই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দেহে ঢুকলে রক্ত পায়খানা হতে পারে।

ক্লোস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম ব্যাকটেরিয়া মাটিতে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়ার টক্সিনে যে খাদ্য-বিষক্রিয়া হয়, তাকে বটুলিজম বলা হয়। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বোতলে বা কৌটোয় খাবার সংরক্ষণ না করলে এটিতে লোকে আক্রান্ত হয়। যেমন, ঠিকমতো পাস্তুরাইজড না করা দুধ থেকে অনেক সময়ে খুব ছোট বাচ্চাদের বটুলিজম হতে পারে। বটু্লিজম-এর লক্ষণ হল, পেশির ক্ষমতা হ্রাস, এতে স্নায়ু অসার হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। এটি হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন।

টক্সোপ্লাজমা বলে এক ধরনের এককোষী জীবাণুর জন্য টক্সোপ্লাজমোসিস হয়। সাধারণত ভালোভাবে রান্না না করা মাংস থেকে ( এটি বহু পাখি ও জন্তুর মধ্যেই থাকে ) এটি শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময়ে পশুপাখির সংস্পর্শে এলে ( বিশেষ করে জীবাণু বহনকারী বেড়াল ) এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মুশকিল হল টক্সিপ্লাজমোসিস এর লক্ষণ বিশেষ কিছুই নেই। অনেক সময় অল্প ফ্লু-র মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মোটামুটিভাবে প্রায় সবাই এতে আক্রান্ত হলে শরীরে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তলতে পারে। কিন্তু গর্ভবতী নারী ও যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম,তাদের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ঠিকমতো সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া হলে এই রোগের সংক্রমণের ফলে ভ্রুণ নষ্ট হওয়া, মৃতশিশু প্রসব, শিশু জীবিত অবস্থায় জন্মালে তার মস্তিষ্ক, চোখ ইত্যাদি স্বাভাবিক না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এইডস রোগী বা যারা ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি নিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রেও এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করা মারাত্মক।

Designed & Developed by TechSolutions BD